নিজস্ব প্রতিবেদক
এক রাতে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে হুমকি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অত্যন্ত বেশি হলেও ইরানের কৌশলের কাছে নৈতিকভাবে হেরে গেছে দেশটি। আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানিদের সাহসী লড়াই ও নানা কৌশলের কারণেই আমেরিকার পরাজয় হয়েছে।
সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র দানবীয় শক্তির অধিকারী এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলো তাদের একের পর এক পরাজয়ের গ্লানিই বরণ করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরাজয়ের উদাহরণ হলো আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার। প্রায় ২০ বছর যুদ্ধ চালানোর পর দেশটি পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। তালেবানরা আবার ক্ষমতা ফিরে পায়।
যুক্তরাষ্ট্র-ভিয়েতনাম যুদ্ধ
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫-১৯৭৫) শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। ঠান্ডা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন দিলেও শেষ পর্যন্ত কমিউনিস্ট উত্তর ভিয়েতনামের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়।
যুদ্ধের সূচনা হয় ভিয়েতনামকে কমিউনিস্ট উত্তর ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত দক্ষিণে বিভক্ত করার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্র ‘ডোমিনো থিওরি’ অনুযায়ী আশঙ্কা করেছিল, একটি দেশ কমিউনিস্ট হলে আশপাশের দেশগুলোও একই পথে যাবে। সেই লক্ষ্যেই তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
তবে যুদ্ধের ময়দানে গেরিলা কৌশল, ঘন জঙ্গলভিত্তিক লড়াই এবং স্থানীয় জনগণের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত শক্তি থাকা সত্ত্বেও এসব কৌশলের কার্যকর মোকাবিলা করতে পারেনি মার্কিন বাহিনী।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তীব্র যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। হাজার হাজার সৈন্য নিহত হওয়া এবং বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
অবশেষে ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার শুরু করে। এর দুই বছরের মাথায়, ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল, উত্তর ভিয়েতনামের বাহিনী রাজধানী সাইগন দখল করে নেয়। এর মাধ্যমে দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতন ঘটে এবং পুরো দেশ কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে একত্রিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে কিছু সাফল্য পেলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। ফলে ভিয়েতনাম যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় কৌশলগত পরাজয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ভিয়েতনাম যুদ্ধ দেখিয়েছে, শুধু সামরিক শক্তি নয়, রাজনৈতিক লক্ষ্য ও জনসমর্থনই একটি যুদ্ধের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে।